ঋকবেদের যুগে আর্য ভাষীরা ভারতের কোথায় থাকত, তা দিয়েই শুরু করা যাক আমাদের আলোচনা
ঋক বৈদিক যুগে ভারতের আর্য(ভাষী) মানুষের বসতির প্রথম কেন্দ্রস্থল উত্তর পশ্চিম অঞ্চল। ঋকবেদ সংহিতার উপাদান থেকে যে চিত্র পাওয়া যায়, তার ভৌগলিক পরিসর হল আফগানিস্থান, পাঞ্জাব, সিন্ধুপ্রদেশ, রাজপুতানার অংশবিশেষ, 🌼উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, কাশ্মীর এবং সুর্য নদী পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্বাঞ্চল।
এই অঞ্চলের নদীগুলো হলো রসা, 😱কুভা (কাবুলে), কোরাম, গোমতী, সুবাস্তু ( সোয়াত উপত্যকা), সিন্ধু, বিতস্তা, চন্দ্রভাগা, ইরাবতী, 🌹বিপাসা, শতদ্রু, সরস্বতী, যমুনা, গঙ্গা ইত্যাদি।
বৈদিক সাহিত্যে মোট ৩১ টি নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রাচীনতম ঋকবেদেই রয়েছে ২৫ টি নদীর উল্লেখ। (দ্রষ্টব্য - নদীস্তুতি ১০.৭৫) এই নদীগুলির মধ্যে প্রধান ছিল সমুদ্রগামিনী সরস্বতী। বহুবার এই নদীটির উল্লেখ দেখা যায়। গঙ্গা তখনো প্রধান নদী হয়ে ওঠে নি। যমুনা নদীর কথা তিনবার উল্লিখিত হয়েছে।
ঋক পরবর্তী বৈদিক যুগে কতটা ছড়াল আর্যভাষীদের ভূগোল?
ঋক বেদোত্তর যুগে লোহার আয়ুধের আবিষ্কার বিকাশকে কেন্দ্র করে আর্য(ভাষী)দের দুর্বার অভিযানগুলি ঘটতে থাকে এবং ভারতে আর্যদের এলাকা বিস্তৃত হয়।
নর্মদার উত্তরে সারা ভারত জুড়ে আর্যরা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যদেশ আগের তুলনায় প্রাধান্যলাভ করে। আর্য(ভাষী)দের মূল কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় কুরুক্ষেত্র।(মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্র ও বর্তমান দিল্লির আশেপাশের এলাকা।) এই কুরুক্ষেত্রের দক্ষিণে ছিল খাণ্ডব (এ অঞ্চলেে🐥 বনাঞ্চল দহন করে নগরী গড়ে তোলার কথা আছে মহাভারতে।) উত্তরে ছিল তূর্ঘন ও পশ্চিমে ছিলো পরিনাহ। পরীকবেদের পরবর্তী যুগে ভারত তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল। ব্রহ্মাবর্ত বা আর্যাবর্ত, মধ্যদেশ এবং দক্ষিণাপথ। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ পাঁচটি বিভাগের কথা বলেছে। ১) মধ্য দেশ ২) প্রাচী দেশ ৩) দক্ষিণা দেশ ৪) প্রতীচী দেশ ৫) উদীচী দেশ।
২)
ঋকবেদ কে ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই দেখা হয়, আলোচনা করা হয়। সেটা খুব ভুল কিছু নয়। কিন্তু ঋকবেদ নিঃসন্দেহে সেকালের ভারতের জনজীবনেরও মূল্যবান দলিল। আরো নানাকিছুর মতো সেকালের ভারতের অর্থনৈতিক জীবনের অনেক সাক্ষ্য ঋকবেদ থেকে আমরা পেয়ে যাই।
ঋকবেদের ছত্রে ছত্রে কৃষিকাজের অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে আছে। কর্ষিত জমি হল ক্ষেত্র, কৃষি বলতে বোঝাত লাঙল চালানো। হল এবং তার অগ্রভাগ ফলা, জমিতে হলের দাগ সীতা, হল (হাল) টানা বলদকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ডাঙশের উল্লেখ আছে। সিন্ধু সভ্যতায় কূপের ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও কপিকলের সাহায্যে জল তোলার কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। ঋকবেদে কিন্তু কপিকল জাতীয় চাকার কথা বলা হয়েছে। কূপ থেকে পটি লাগানো কাঠের কেঁড়ে বা হাতলওয়ালা বালতির সাহায্যে জল তোলার প্রসঙ্গও এসেছে। কূপ থেকে জল তোলার কাজে কপিকলের দড়ি টানতে বলদকে ব্যবহার করা হত। সেই জল প্রশস্ত পরিখায় প্রবাহিত হত। জমিতে সেচের জন্য কূপের এমন ব্যবহারে নদীর তীর বরাবর প্লাবনভূমিতে ফসল ফলানোর বাধ্যতামূলক শর্ত থেকে কৃষির মুক্তি ঘটে। যেখানে ভূগর্ভে যথেষ্ট উত্তোলনযোগ্য জল আছে, সেখানে কৃষিকাজ প্রসারিত হতে পারল। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সমতলভূমিতে স্বল্পমাত্রায় এক ধরনের কৃষিবিপ্লব ঘটে বৈদিক যুগে।
ঋকবেদে যে সব শস্যের উল্লেখ পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে যব, ধান/ ব্রীহি, গোধূম/গম। সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে কার্পাস ধারাবাহিকভাবে ভারতে উৎপন্ন হয়েছে। কিন্তু ঋকবেদে আশ্চর্যজনকভাবে এই শব্দটির উল্লেখ নেই। তবে কার্পাস উৎপাদিত হত না, এমন নয়। একে আকস্মিক অনুল্লেখ বলেই ধরতে হয়।
ঋকবৈদিক যুগে মানুষের অন্যতম প্রধান জীবিকা ছিল পশুপালন। সম্পদকে পশুকুলের সংখ্যার মাপকাঠিতে দেখা হয়েছে ঋকবেদে। ঘোড়া ও অন্যান্য প্রধান প্রধান গবাদি পশু - যেমন গরু, মোষ, উট, ভেড়ার প্রচুর উল্লেখ পাওয়া যায়।
স্পোক বা অর যুক্ত চাকার উল্লেখ পাওয়া যায় ঋকবেদে। চাকার প্রযুক্তিতে এটা ছিল একটা উল্লম্ফন। ভারি জিনিসের পরিবহন এর ফলে অনেক সহজ হয়ে যায়।
ঋকবেদে বিভিন্ন রকমেের হস্তশিল্পের প্রচলন প্রসঙ্গ রয়েছে। এর মধ্যে আছে কামার, কুমোর, বয়নশিল্পি ছাড়াও আরো কিছু জীবিকার উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঋকবেদে একটি বাজারের বর্ণনা আছে। বিক্রেতারা সেখানে ক্রেতাদের খুঁজছে। এই বাণিজ্য নিঃসন্দেহে তখন হত বিনিময় প্রথায়।
আকর
১) 🐥 বৈদিক যুগ - ইরফান হাবিব ও বিজয়কুমার ঠাকুর (ন্যাশানাল বুক এজেন্সি)🌻
২) 🐥প্রাচীন ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসের সন্ধানে - রণবীর চক্রবর্তী🏵️ ( আনন্দ পাবলিশার্স)
(ক্রমশ)
ঋকবেদ কে ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই দেখা হয়, আলোচনা করা হয়। সেটা খুব ভুল কিছু নয়। কিন্তু ঋকবেদ নিঃসন্দেহে সেকালের ভারতের জনজীবনেরও মূল্যবান দলিল। আরো নানাকিছুর মতো সেকালের ভারতের অর্থনৈতিক জীবনের অনেক সাক্ষ্য ঋকবেদ থেকে আমরা পেয়ে যাই।
ঋকবেদের ছত্রে ছত্রে কৃষিকাজের অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে আছে। কর্ষিত জমি হল ক্ষেত্র, কৃষি বলতে বোঝাত লাঙল চালানো। হল এবং তার অগ্রভাগ ফলা, জমিতে হলের দাগ সীতা, হল (হাল) টানা বলদকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ডাঙশের উল্লেখ আছে। সিন্ধু সভ্যতায় কূপের ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও কপিকলের সাহায্যে জল তোলার কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। ঋকবেদে কিন্তু কপিকল জাতীয় চাকার কথা বলা হয়েছে। কূপ থেকে পটি লাগানো কাঠের কেঁড়ে বা হাতলওয়ালা বালতির সাহায্যে জল তোলার প্রসঙ্গও এসেছে। কূপ থেকে জল তোলার কাজে কপিকলের দড়ি টানতে বলদকে ব্যবহার করা হত। সেই জল প্রশস্ত পরিখায় প্রবাহিত হত। জমিতে সেচের জন্য কূপের এমন ব্যবহারে নদীর তীর বরাবর প্লাবনভূমিতে ফসল ফলানোর বাধ্যতামূলক শর্ত থেকে কৃষির মুক্তি ঘটে। যেখানে ভূগর্ভে যথেষ্ট উত্তোলনযোগ্য জল আছে, সেখানে কৃষিকাজ প্রসারিত হতে পারল। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সমতলভূমিতে স্বল্পমাত্রায় এক ধরনের কৃষিবিপ্লব ঘটে বৈদিক যুগে।
ঋকবেদে যে সব শস্যের উল্লেখ পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে যব, ধান/ ব্রীহি, গোধূম/গম। সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে কার্পাস ধারাবাহিকভাবে ভারতে উৎপন্ন হয়েছে। কিন্তু ঋকবেদে আশ্চর্যজনকভাবে এই শব্দটির উল্লেখ নেই। তবে কার্পাস উৎপাদিত হত না, এমন নয়। একে আকস্মিক অনুল্লেখ বলেই ধরতে হয়।
ঋকবৈদিক যুগে মানুষের অন্যতম প্রধান জীবিকা ছিল পশুপালন। সম্পদকে পশুকুলের সংখ্যার মাপকাঠিতে দেখা হয়েছে ঋকবেদে। ঘোড়া ও অন্যান্য প্রধান প্রধান গবাদি পশু - যেমন গরু, মোষ, উট, ভেড়ার প্রচুর উল্লেখ পাওয়া যায়।
স্পোক বা অর যুক্ত চাকার উল্লেখ পাওয়া যায় ঋকবেদে। চাকার প্রযুক্তিতে এটা ছিল একটা উল্লম্ফন। ভারি জিনিসের পরিবহন এর ফলে অনেক সহজ হয়ে যায়।
ঋকবেদে বিভিন্ন রকমেের হস্তশিল্পের প্রচলন প্রসঙ্গ রয়েছে। এর মধ্যে আছে কামার, কুমোর, বয়নশিল্পি ছাড়াও আরো কিছু জীবিকার উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঋকবেদে একটি বাজারের বর্ণনা আছে। বিক্রেতারা সেখানে ক্রেতাদের খুঁজছে। এই বাণিজ্য নিঃসন্দেহে তখন হত বিনিময় প্রথায়।
আকর
১) 🐥 বৈদিক যুগ - ইরফান হাবিব ও বিজয়কুমার ঠাকুর (ন্যাশানাল বুক এজেন্সি)🌻
২) 🐥প্রাচীন ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসের সন্ধানে - রণবীর চক্রবর্তী🏵️ ( আনন্দ পাবলিশার্স)
(ক্রমশ)
